বিরল লোকসানের পর

১৪৭৬ কোটি ডলার মুনাফা গ্যাজপ্রমের

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলার বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি রুবল মুনাফা করেছে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ২০২৪ সালে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলার বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি রুবল মুনাফা করেছে। টানা দুই দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো লোকসানে পড়ে এ এনার্জি জায়ান্ট। এর এক বছরের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে রয়েছে চীনসহ কয়েকটি দেশে গ্যাস রফতানি সম্প্রসারণ। পাশাপাশি অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগ থেকে সুদ বাবদ আয়ও গ্যাজপ্রমের মুনাফা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে। খবর আরটি।

একসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রধান গ্যাস সরবরাহকারী ছিল গ্যাজপ্রম। তবে বছর তিনেক আগে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনের ওপর হামলা হওয়ার পর ইইউতে গ্যাস রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দেয় কোম্পানিটি।

২০২১ সালে ইইউতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানিতে রুশ হিস্যা ছিল ৪০ শতাংশের বেশি, গত বছর কমে দাঁড়ায় প্রায় ১১ শতাংশে। ২০২৩ সালে ইইউতে বিক্রি কমে যাওয়ায় রেকর্ড লোকসানের মুখে পড়ে রাশিয়ার একসময়কার সবচেয়ে বাজারমূল্যের প্রতিষ্ঠানটি। ওই বছর ৬৮০ কোটি ডলার নিট ক্ষতির কথা জানায় গ্যাজপ্রম, যা ১৯৯৯ সালের পর প্রথম। তবে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার নিট মুনাফা করেছিল।

গ্যাজপ্রম গ্রুপের ব্যবসার আওতায় রয়েছে গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ খাত। ২০২৪ সালে আয় ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বা ১০ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুবল, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালে আয় করে ১৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। ওই সময় ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়া থেকে আমদানি কমাতে গিয়ে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে যায়।

গত বছর গ্যাজপ্রমের ব্যয় ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫০ কোটি। তবে কোম্পানির ৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুবল ঋণ অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ লাখ কোটি রুবলের বেশি।

এ নগদ প্রবাহ নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও গ্যাজপ্রম গ্রুপের উচ্চ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফামিল সাদিগভ। তিনি বলেছেন, ‘২০২৪ সালে গ্যাজপ্রম বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকে অবস্থান আরো শক্ত করেছে, যা তাদের ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা ও স্থিতিশীলতাই প্রমাণ করে। এ উন্নতির পেছনে রয়েছে চীনসহ কিছু দেশে গ্যাস রফতানি বৃদ্ধি এবং সুদ বাবদ আয়ের ঊর্ধ্বগতি।’

আরও